🔴 ব্রেকিং

শিরোনাম

নওগাঁ পোরশা উপজেলাঃ শিশুদের প্রাণঘাতী হাম রোগে উদ্বেগ, চিকিৎসা সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাড়ছে দুর্ভোগ।


নওগাঁ পোরশা প্রতিনিধিঃ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন

নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলায় সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে প্রাণঘাতী “হাম” রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যা অভিভাবকসহ স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি শ্বাসতন্ত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসায় হাসপাতালজুড়ে ভিড় বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে গিয়ে সেবাদানে কিছুটা সংকট তৈরি হচ্ছে এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।

অন্যদিকে, সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—হাম রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে এনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো চিকিৎসা পেতেও ব্যাঘাত ঘটছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “মেডিকেলে এসে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে আমাদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং গরিব রোগীদের জন্য এটি বড় কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এছাড়া, স্থানীয় জনগণ আরও অভিযোগ করেন যে, পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালের পরিবেশ রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেকের মতে, সুস্থ হতে এসে অনেক রোগী উল্টো আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন এবং রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বোপরি, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ, টিকাদান নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে এই রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন