সুরাইয়া আক্তার সনি, ইসলামপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
২৩,৭৬৮ ভোটারের রায় পুনর্বহালের দাবি; গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সদ্য অপসারিত ভাইস চেয়ারম্যান মুন্নী আক্তার ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশের গণমাধ্যমের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে তাকে অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়েছে, যা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং হাজারো ভোটারের রায়ের অবমূল্যায়ন।
মুন্নী আক্তার জানান, তিনি একজন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক হিসেবে সমাজের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ২৩ হাজার ৭৬৮ জন ভোটার তাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, যা তার ভাষায় “একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবময় অর্জন”।
তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নয়, সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে মুন্নী আক্তার বলেন, “যখন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তখন কেন আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না? আমি কি এ দেশের নাগরিক নই? আমার অপরাধ কী?”
তিনি আরও বলেন, “আমাকে অপসারণ করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সরানো নয়, বরং একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি আবারও অবহেলা প্রদর্শন করা।”
মুন্নী আক্তার জানান, শৈশব থেকেই তিনি পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কঠিন জীবনযাপন করেছেন। ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মানুষের সেবা করার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেন এবং জনগণের ভোটে বিজয়ী হন।
তিনি বর্তমান সরকারের কাছে তার পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমি মানুষের সেবা করতে চাই। আমাকে আমার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে ২৩ হাজারের বেশি মানুষের আমানত রক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে তিনি দেশের সকল সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে তার এই দাবি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন