🔴 ব্রেকিং

শিরোনাম

দুঃসময়ের রাজপথ পেরিয়ে আলোচনায় ডা. লুসি খান


বিশেষ প্রতিবেদকঃ 


সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অভ্যন্তরে নীরব তৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। দলীয় মনোনয়নকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সক্রিয়তা বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-মহিলা সম্পাদক ডা. লুসি খান সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন।


দলীয় সূত্র ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রীদের মধ্যে ডা. লুসি খানকে ‘পরীক্ষিত’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিগত সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ, একাধিক মামলা ও হামলার মুখেও অবস্থান ধরে রাখা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা—এসব বিষয় তাকে তৃণমূল পর্যায়ে একটি আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলগুলো এখন শুধু আনুগত্য নয়, বরং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় ডা. লুসি খানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল সংযোগ তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


রাজনীতির পাশাপাশি চিকিৎসক হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগ তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে এবং তাকে জনমুখী একটি পরিচিতি দিয়েছে।


দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে অতীতে তার ব্যক্তিগত জীবনে চাপের মুখে পড়ার ঘটনাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মতো বিষয়গুলো সে সময় দলীয় মহলে আলোচনার জন্ম দেয় এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে বলে জানা যায়।


এদিকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষিকা বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনে শিক্ষিত ও সচেতন প্রতিনিধিত্ব সময়ের দাবি। সে বিবেচনায় ডা. লুসি খান একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী।”


ডা. লুসি খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নারী শিক্ষা বিস্তার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাসে কাজ করতে চান। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে যে নীরব প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, তা দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে নেতৃত্ব মূল্যায়নের ইঙ্গিত বহন করছে। তৃণমূলভিত্তিক ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেত্রীদের সামনে আনার প্রশ্নে ডা. লুসি খানের এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন