সুরাইয়া আক্তার সনি, ইসলামপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
জামালপুরে ইয়াবাসেবী ও ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রনি মিয়া জয় এবং তার স্ত্রী অনিতাকে গ্রেফতার করেছে জামালপুর সদর থানা পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে পৃথক অভিযানে শহরের সিংহজানী রোড ও ফৌজদারি মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসআই সেলিমের নেতৃত্বে সিংহজানী রোডের আতাউর রহমান মন্টুর বাসা থেকে অনিতাকে এবং এসআই খাইরুজ্জামানের নেতৃত্বে শহরের ফৌজদারি মোড় থেকে জয়কে আটক করা হয়।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, জামালপুর শহরের সিংহজানী রোড কাচারীপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন দৈনিক সংবাদ সারাবেলা’র জামালপুর প্রতিনিধি ও দৈনিক জনবাণী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুর রহমান। তিনি ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২১ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান। পরে ২৮ অক্টোবর নিজ বাসায় ফিরে গিয়ে দেখতে পান, তার রুমে থাকা একটি ওয়ালটন ল্যাপটপ, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি A13, একটি ভিভো Y20 মোবাইল ফোন এবং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ৪৪ হাজার ৭২০ টাকা চুরি হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাটারা ইউনিয়নের নান্নু মিয়ার ছেলে রনি মিয়া জয় এবং তার স্ত্রী অনিতা বাসায় গিয়ে এসব নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করলে স্থানীয়ভাবে একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয় এবং বাকি টাকা ও একটি মোবাইল ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরত দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে মালামাল ফেরত না দিয়ে উল্টো ২ জানুয়ারি রাতে জয় ও তার স্ত্রী অনিতা ভুক্তভোগী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে তদন্ত শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এছাড়াও অভিযুক্ত রনি মিয়া জয়-এর বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদুর রহমান বলেন, “আমার বাসা থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার পর বিচার হলেও তারা প্রতিশ্রুতি রাখেনি। বরং টাকা ও মোবাইল ফেরত চাইলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”
জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন