সুরাইয়া আক্তার সনি, ইসলামপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ডিজেল সংকটের কারণে বোরো ধানের আবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় আবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের সীমান্তঘেঁষা উত্তরাঞ্চলের জেলা জামালপুর নদ-নদী ও চরাঞ্চলবেষ্টিত হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব এবং সরবরাহ সংকটের কারণে জেলায় তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে থেমে থেমে তেল সরবরাহ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না।
ডিজেল সংকটের ফলে সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক এলাকায় ধানক্ষেতে পানি দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে সেচ কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না এক লিটার ডিজেল—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কৃষকদের ভাষ্য, সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০৫ টাকা হলেও তা ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় অন্তত সাতজন ভুক্তভোগী কৃষক ও এক পাম্প ম্যানেজার জানান, “ডিজেল সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো আবাদ করতে পারছি না। বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, “শুরুর দিকে ডিজেলের চাহিদা বেশি ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে আবারও ডিজেলের চাহিদা বাড়তে পারে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বোরো উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই কৃষকদের আবাদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন