নাটোর-নওগাঁ সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বড়াইগ্রামের বিএনপি নেত্রী মহুয়া নূর কচির নাম।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বড়াইগ্রামের তুখোড় নেতা শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজনৈতিক ও মানবিক সহানুভূতি জানাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি মহুয়া নূর কচি ও তার সন্তানদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন, যা এখনও স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
এরপর থেকেই মহুয়া নূর কচি সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে আসছেন। আসন্ন সময়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে নাটোর-নওগাঁ অঞ্চলে পাঁচজন নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় আসে—মহুয়া নূর কচি, সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, সাবেক এমপি সুফিয়া হক, আইনুন নাহার ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন মহুয়া নূর কচি। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে খালেদা জিয়া-র দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা।
বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর কাছ থেকেও এই প্রতিশ্রুতির মূল্যায়ন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
মহুয়া নূর কচি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছু সময় হুইলচেয়ারে চলাচল করলেও তিনি পিছিয়ে যাননি। পাশাপাশি তিন কন্যা সন্তানের দায়িত্বও তিনি একাই বহন করে আসছেন।
নিজ বক্তব্যে মহুয়া নূর কচি বলেন, তার স্বামীর রাজনৈতিক অবদান, নিজের সংগ্রামী জীবন এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা বিবেচনায় নিলে দলীয় মনোনয়নে তিনি এগিয়ে থাকবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, নাটোর জেলার উন্নয়ন ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে মহুয়া নূর কচির মতো একজন সংগ্রামী নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হলে তা জেলার জন্য ইতিবাচক হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন