দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রবিউল ইসলাম নিজ উদ্যোগে বাঁশের সলা (পাতলা কঞ্চি) উৎপাদন ও বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। তার এই সফলতা দেখে একই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক এ পেশায় যুক্ত হয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাঁশের সলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানের বর তৈরির কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় বাঁশ শুধুমাত্র গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে তা থেকে তৈরি সলা কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। কৃষক মো. রবিউল ইসলাম বাঁশ সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করে ছোট ছোট সলা তৈরি করছেন এবং পাইকারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন।
কৃষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন,
“আগে বাঁশের তেমন মূল্য ছিল না। এখন সলা বানিয়ে বিক্রি করে ভালো আয় করা যাচ্ছে। এতে পরিবার চালানোর পাশাপাশি কিছু সঞ্চয়ও করতে পারছি। আমাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, স্বল্প খরচে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এই উদ্যোগটি দ্রুত লাভজনক হয়ে উঠছে এবং নতুনদের জন্যও এটি একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পানের বর তৈরিতে বাঁশের সলার কোনো বিকল্প নেই। ফলে দেশের বিভিন্ন পানের বাজারে এর চাহিদা সবসময় স্থিতিশীল রয়েছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাঁশভিত্তিক এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সাকিব হাসান নাইম
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন