বরগুনা প্রতিনিধি:জয় চন্দ্র শীল
ডেঙ্গুর প্রকোপ কাটতে না কাটতেই এবার হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনা। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুইটি সংক্রামক রোগের বিস্তারে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। সদর, পাথরঘাটা, তালতলী, আমতলী ও বামনা উপজেলায় আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি বলে জানা গেছে।
এর আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে বেশ কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। এখন সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই হাম রোগ নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একের পর এক সংক্রামক রোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বাড়ছে।
চিকিৎসকরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি ওঠা এর প্রধান লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “বর্তমানে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত রোগী আসছে, যার অধিকাংশই শিশু। ডেঙ্গুর পর এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।”
অভিভাবকরা জানান, শিশুদের নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই স্কুলে পাঠানো বন্ধ রেখেছেন এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ও হাম—দুই রোগের বিস্তার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একদিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অন্যদিকে টিকাদান নিশ্চিত করা—দুই ক্ষেত্রেই সচেতনতা জরুরি।
স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। না হলে বরগুনায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন