নওগাঁ প্রতিনিধিঃ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন
নওগাঁর সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তের কুচিন্দা খাড়ি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে খাড়ির জায়গা দখল করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কুচিন্দা ব্রিজের দুই পাশে খাড়ির জমিতে কনক্রিটের পিলার স্থাপন ও ঢালাইয়ের মাধ্যমে বহুতল স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই খাড়িটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার বৃষ্টির পানি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এই খাড়ি দিয়েই প্রবাহিত হয়।
বর্তমানে যেভাবে খাড়ির জায়গা দখল করে নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে পানির স্বাভাবিক গতিপথ সংকুচিত হয়ে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এতে বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষক মোঃ রহিম উদ্দিন বলেন,
"এই খাড়িটাই আমাদের এলাকার প্রাণ। বর্ষায় ভারতের পানি আর আমাদের জমির পানি এই পথ দিয়েই নেমে যায়। এখন যদি খাড়ি বন্ধ করে ঘর তোলা হয়, তাহলে আমাদের ফসল তো নষ্ট হবেই, বাড়িঘরও পানিতে ডুবে যাবে।"
অন্যদিকে, বাসিন্দা মোঃ আব্দুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"সরকারি জায়গা এভাবে দখল করে ভবন তোলা হচ্ছে, অথচ কেউ দেখার নেই। প্রভাবশালীরা খালের ওপর কনক্রিট ঢালাই করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।"
এদিকে, খাড়ি দখলের ঘটনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়তে হয়। সাপাহার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর প্রতিনিধি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য সংগ্রহের সময় তাকে কটাক্ষ ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাপাহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বাবুল আকতার বলেন,
"একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ বলেন,
"সরকারি খাড়ি বা খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে খাড়ির সীমানা নির্ধারণ এবং সরকারি জমি উদ্ধার করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের কারণে কৃষি ও জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন