এ.এস.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দফায় দফায় হামলা করে পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাদল মিয়া নামে এক মাদক কারবারিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যার পর উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ লোহাজুরী, উত্তর লোহাজুরী ও চরকাউনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্যে যুবসমাজ প্রায় ধ্বংসের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
মাদকের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরফলে মাদক ব্যবসা দিন দিন বিস্তার লাভ করতে থাকে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। একপর্যায়ে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে উত্তেজিত জনতা পাঁচ মাদক কারবারির বাড়িতে দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে ভাঙচুর করা বাড়িগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের সাইফুল ইসলাম (বিলপাড়), মুহিউদ্দীন কালা ও তার স্ত্রী রোকিয়া বেগম(কাজীর মোড়), আমজাদ হোসেন (বাকশা বাড়ি), উত্তর লোহাজুরী গ্রামের ডিশান মিয়া এবং চরকাউনিয়া গ্রামের বাদশা আফ্রাদের বাড়ি।
সোমবার বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকার একটি সেতুর ওপর থেকে স্থানীয় জনতা বাদল মিয়া নামে এক মাদক কারবারিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে । পরে তাকে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটককৃত বাদল মিয়া দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের আইন উদ্দিন বেপারীর ছেলে।
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উত্তর লোহাজুরী গ্রামের বাসিন্দা জয় আহমেদ বকুল জানান, লোহাজুরী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে বারবার অবহিত করা হয়েছে। এরপরও পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। অবশেষে আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের এই ব্যবসা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছি। এতেও তারা কোনো কর্ণপাত না করে বরং প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
এরই প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় যুবসমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, লোহাজুরী ইউনিয়নের লোকজন সোমবার বিকেলে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ বাদল মিয়া নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও আটকের বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত অবগত নন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন