দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় জ্বালানি সংকট ও এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটের পাশাপাশি গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৪ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও গ্যাস বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে “পেট্রোল নাই, অকটেন নাই” লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই পাম্পে তেল থাকে না। যেদিন আসে, সেদিনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাই না। এতে কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমে গেছে।”
এ সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় এনজিও কর্মী মমদেল ইসলাম জানান,
“তেলের অভাবে মাঠ পর্যায়ের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সেবা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে প্রান্তিক মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,
“এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে গ্রামীণ অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপর মহল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, এলপিজি গ্যাসের বাজারেও চলছে চরম অস্থিরতা। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৭২৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে—এমন অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
শিক্ষক কামরুজ্জামান রাসেল বলেন,
“গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“অনেক পরিবার এখন বিকল্প হিসেবে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করছে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।”
গৃহিণী রিনা বেগম বলেন,
“গ্যাসের দাম এত বেড়েছে যে রান্না করাই কঠিন হয়ে গেছে। কোথাও নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।”
গ্যাস বিক্রেতাদের একাংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরবরাহ কম থাকায় তাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সংকট আরও গভীর হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন,
“পেট্রোল ও অকটেন সংকট এবং এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ভোক্তা অধিকার আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
(দিনাজপুর) ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রতিনিধি
সাকিব হাসান নাইম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন