🔴 ব্রেকিং

শিরোনাম

সিরাজগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে অবহেলার অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্যসেবা

 


সিরাজগঞ্জ সদর জেলাপ্রতিনিধি মোঃ হযরত আলী

মানুষ তাহলে সেবার জন্য যাবে কোথায়?

সিরাজগঞ্জের শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—যে হাসপাতাল মানুষের শেষ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানেই যদি অসহায়ত্বের গল্প লেখা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে?


একটি আড়াই বছরের শিশু… ঘাড়ে ছোট্ট ফুসুড়ি থেকে ইনফেকশন। ব্যথায় শিশুর চিৎকারে যেন আকাশ কাঁদছিল পরিবারের বুকভরা আতঙ্ক নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক দেখলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলো, অপারেশনের তারিখও দেওয়া হলো। স্বজনদের বলা হলো—সব প্রস্তুতি নিতে। তারা দৌড়ে দৌড়ে ওষুধ কিনল, যা যা দরকার সব জোগাড় করল।

কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগ মুহূর্তে—একটি বাক্য সবকিছু ভেঙে দিল:

“এখানে অপারেশন হবে না, বগুড়া নিয়ে যান!”


এই কয়েকদিন তাহলে কেন?

এই মানসিক যন্ত্রণা, এই দৌড়ঝাঁপ—কার দায়িত্ব?


একটি শিশুর জীবন নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা কি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়?


অথচ পরে যখন সেই অসহায় পরিবার সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল হাসপাতাল-এ যায়, সেখানে চিকিৎসকরা বলছেন—“এটা তেমন জটিল কিছু না, এখানেই অপারেশন সম্ভব।”

তাহলে প্রশ্নটা আরও তীব্র হয়ে ওঠে—

সরকারি হাসপাতালে কেন এই অবহেলা? কেন এই দায়সারা মনোভাব?


মানুষ সরকারি হাসপাতালে যায় ভরসা নিয়ে—কারণ সবার পক্ষে বেসরকারি খরচ বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু যদি সেখানে এমন উদাসীনতা দেখা যায়, তাহলে সেই ভরসাটা ভেঙে যায়।

একজন বাবা-মায়ের চোখে তখন শুধু আতঙ্ক আর প্রশ্ন—“আমার সন্তানের নিরাপত্তা কোথায়?”


এটা শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, এটা পুরো সিস্টেমের একটি আয়না।

যেখানে দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়ের অভাব আর জবাবদিহিতার সংকট স্পষ্ট।


এখন সময় এসেছে—

এই প্রশ্নটা জোরে বলার:

 রোগী কি শুধুই একটি সংখ্যা?

 নাকি তাদের জীবনেরও কোনো মূল্য আছে?


মানুষ সেবা চায়, অবহেলা নয়।

নিরাপত্তা চায়, অনিশ্চয়তা নয়।

বিশ্বাস চায়, প্রতারণা নয়।


এই ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।

আর নিশ্চিত করা হোক—কোনো মা-বাবাকে যেন আর এভাবে সন্তানের জীবন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়তে না হয়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন