মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় ঈদের পরদিন থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। রাজশাহীর ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে হাজার হাজার গ্রাহক তেল কিনতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছেন। তেল সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে ।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার বিপরীতে অর্ধেক পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে। অকটেনের সরবরাহ বন্ধ। তবে চাহিদার বিপরীতে ডিজেল পাচ্ছেন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ। জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে না পেরে গ্রাহকদের গালিগালাজ শুনছেন। এজন্য অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রেখেছেন।
রাজশাহীতে ৪৪টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি বন্ধ আছে। বাকিগুলোতেও তেল নেই বললেই চলে। ফলে জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন যানবাহন চালকরা।
তেল নিতে যাওয়া বখতিয়ার শাহরিয়ার বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা ও মহানগরীর ২০টি পাম্প ঘুরেছি। মঙ্গলবার সকাল থেকে কয়েকটি পাম্পে গেছি। কোথাও তেল পাইনি। ঈদের দিন থেকেই বন্ধ আছে জেলার অধিকাংশ পাম্প। যে পাম্পে যাচ্ছি বলছে তেল নেই। এর মধ্যে কিছু পাম্প তেল পেলেও তা বিক্রি করছে না। যারা ডিপো থেকে নিয়ে আসছে তারা বিক্রি না করে মজুত করে রাখছে।’
রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল বলেন, ‘পাম্পগুলোতে যা মজুত ছিল তা ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোনও পাম্পে আর পেট্রল ও অকটেন নেই। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা এসে পাম্পগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। তেল নেই অধিকাংশ পাম্পে নোটিশ দিয়ে দড়ি টানিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাঘাবাড়ি ডিপোতে আমাদের লরি গেছে। লরিতে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেলের ধারণক্ষমতা। কিন্তু পাওয়া গেছে তিন হাজার লিটার। আমরা পরিবেশকদের বলেছি পর্যাপ্ত তেল দিতে। যদি পাওয়া যায় মঙ্গলবার বিক্রি হবে। ডিপো থেকে শুধু ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। পেট্রল-অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।’
পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তেল বিক্রি শুরু হলে গ্রাহকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। পুলিশ দিয়ে কাজ হয় না। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসককে বলেছি, যেন পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তা না হলে তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন