শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ এখনও দেশে এসে পৌঁছায়নি। এই অপেক্ষার প্রহরে স্বাভাবিকভাবেই সারাদেশে শোক, ক্ষোভ ও গভীর আবেগ বিরাজ করছে। তবে এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে সর্বোচ্চ সংযম, ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন মহল, যাতে একজন জুলাই যোদ্ধার বীরোচিত আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে তাঁর জানাজা ও দাফন শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করা যায়।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, এই সময়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত বা অস্থিতিশীল করে তোলা হবে বেপরোয়া ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দুটি প্রধান পত্রিকা অফিসে জনতার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক পর্যায়ে আগুনে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সাংবাদিকদের জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ও পরে সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রাধান্য পেলে আড়ালে পড়ে যাবে মূল ও জরুরি সত্য, শহীদ হাদির শাহাদাত, তাঁর আদর্শ এবং যে দমনমূলক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। এতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দেশজুড়ে হাদিকে ঘিরে যে ভালোবাসা, নৈতিক সংহতি ও আবেগের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, হাদির আত্মত্যাগকে কলঙ্কিত করাই শত্রুদের মূল লক্ষ্য, যাতে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্য ও দমননীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে, জুলাই আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং মানুষ ক্লান্ত ও বিভ্রান্ত হয়ে পুরনো দমনমূলক ব্যবস্থার পুনর্বাসনের পথ খুলে দেয়।
এই সংকটময় সময়ে দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও রাজনৈতিক সচেতনতা। অতীতে প্রতিবেশী অঞ্চলে কীভাবে সহজ উসকানিতে তরুণরা সহিংসতায় জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছে—তার উদাহরণ টেনে বলা হয়, একই ধরনের প্ররোচনা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবশেষে বলা হয়, উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতাকে অবিলম্বে শান্ত করতে হবে, দৃঢ়ভাবে, সচেতনভাবে ও ধৈর্যের সঙ্গে। শহীদ হাদির লড়াইকে রক্ষা করতে, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং যে ইনসাফ, মর্যাদা ও আদর্শের জন্য তিনি জীবন দিয়েছেন, সেই সুমহান লক্ষ্যের স্বার্থেই সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন