ভাঙ্গুড়া উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে গৌরবের পালক যুক্ত করেছেন গুলে জান্নাত। ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিবি দাখিল মাদ্রাসার সুপার জনাব মোঃ শামছুল আলমের পঞ্চম কন্যা গুলে জান্নাত ২০২৫ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ৫৬৫তম স্থান অর্জন করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
গুলে জান্নাতের শিক্ষাজীবন শুরু হয় শরৎনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভের মধ্য দিয়ে তার মেধার পরিচয় মেলে। পরে ভাঙ্গুড়া মডেল স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, পিলখানা, ঢাকা থেকে এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
গুলে জান্নাত ছয় বোনের মধ্যে পঞ্চম। তার বড় বোন সওদা সুলতানা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত। মেজ বোন ডাঃ সাইদা সুলতানা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে জেনারেল সার্জারিতে এমএস কোর্সে অধ্যয়নরত এবং ৪৮তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। তৃতীয় বোন শামসুন্নাহার নাহিদা রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। চতুর্থ বোন জান্নাতুন নাইম বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। সর্বকনিষ্ঠ বোন নূরে জান্নাত কল্যাণপুর গার্লস কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
গুলে জান্নাতের পিতা জনাব মোঃ শামছুল আলম বিবি দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং মাতা মোছাঃ আলেয়া খাতুন গৃহিণী। তারা ছয় কন্যার সাফল্যে গর্বিত এবং সবার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
এ সাফল্যে ভাঙ্গুড়া মডেল স্কুল এন্ড কলেজ পরিবার গুলে জান্নাতকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অর্জন তার অধ্যবসায়, মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। ভবিষ্যতে সৎ, দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে গরিব-দুঃখী মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
গুলে জান্নাত তার আত্মকথনে জানান, তিনি একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হতে চান এবং সমাজের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা করার লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন