🔴 ব্রেকিং

শিরোনাম

বাগমারায় ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা





বাগমারায় ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা

মো: গোলাম কিবরিয়া

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নূরপুর মহল্লায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।


ঈদের দিন শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সংঘবদ্ধ একটি দল এ তাণ্ডব চালায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন তাহেরপুর পৌরসভ যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা এবং ছাত্রলীগকর্মী শামীম ওসমান ও ফরিদ ইসলাম। একই মহল্লায় অবস্থিত তিনটি বাড়ির মধ্যে সোহেল রানা ও ফরিদের বাড়িতে হামলাকারীরা ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খাট, আলমারি, টেবিল, টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসিসহ প্রায় সব আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় বাড়িতে লুটপাটও চালানো হয়। তবে শামীম ওসমানের বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে থেকেই ভাঙচুর করে তারা।


জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সোহেল রানা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে শামীম ওসমান ও ফরিদ ইসলাম এলাকায় অবস্থান করছেন। সোহেল রানার অভিযোগ, তার ছোট ভাই শিহাব আল সবুজ অনার্স পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে তাহেরপুর কলেজে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালায়।


অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইল ফোনে সোহেল রানা দাবি করেন, তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হামলায় অংশ নেয়। তার দাবি, হামলার সময় কয়েকজনের হাতে পিস্তল এবং অন্যদের হাতে হাঁসুয়া, রামদা ও পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সোহেল রানা ও ফরিদ ইসলামের বাড়ির ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙা ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। সোহেল রানা দাবি করেছেন, তার বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। এছাড়া ফরিদ ইসলামের বাড়ি থেকে ঈদের আগে গরু বিক্রির প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।


ঘটনার পর তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরদিন সোহেল রানার বাবা আবদুল গাফফার বাগমারা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। ডিউটি অফিসার তাকে অভিযোগ না দিতে নিরুৎসাহিত করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।


অন্যদিকে বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন