🔴 ব্রেকিং

শিরোনাম

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ছাত্রদলের পদ হারালেন নেতা, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

 

বিস্তারিত: স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার জেরে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক শাকিলকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বহিষ্কারের খবরে ভেঙে না পড়ে উল্টো সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের অধীন সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল এবং সেনবাগ পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়ালিদ বিন হায়দার আদনানকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেনবাগ এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায় ওমর ফারুক শাকিলকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন,

“আমি মন খারাপ করে বসে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। আলহামদুলিল্লাহ, যা হয়েছে তা মেনেই সামনে এগোবো।”

তিনি আরও বলেন,

“আমি আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। এরপরও বহিষ্কার এসেছে—এটাই রাজনীতির বাস্তবতা। ইনশাআল্লাহ, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের সঙ্গেই থাকব এবং ১২ তারিখ তার বিজয়ের জন্য কাজ করব।”

ওমর ফারুক শাকিলের দাবি, দলীয় মনোনীত প্রার্থী বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামলা ও হামলার সময় মাঠে থেকে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ কারণেই তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে—আমি এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। ইনশাআল্লাহ, সময়ই সবকিছুর জবাব দেবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মিষ্টি পাওয়া এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,

“বহিষ্কারের খবর শুনে যেখানে মানুষ হতাশ হয়, সেখানে তিনি হাসিমুখে মিষ্টি বিতরণ করলেন। এমন রাজনীতি সচরাচর দেখা যায় না।”

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন