🔴 ব্রেকিং

শিরোনাম

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং নতুন বাংলাদেশের সূচনা

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং নতুন বাংলাদেশের সূচনা

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জানতে হলে,ওনার দেশপ্রেম নিয়ে গবেষণা কর‍তে হলে আমাদের চলে যেতে হবে জিয়াউর রহমানের কর্মজীবনের শুরুতে,তিনি ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদবিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।পাকিস্তানে চাকুরিরত অবস্থায় জিয়াউর রহমান দেখেন পাকিস্তানিরা বাংগালী সেনাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরন করেন।বৈষম্যমূলক আচরনের কারনে পুর্ব পাকিস্তানের তরুনরা পাকিস্তানের ডিফেন্সের প্রতি অনিহা জন্ম নেয়।পুর্ব পাকিস্তানের চাকুরিরত সেনা অফিসারা যোগ্য হবার পরেও পশ্চিম পাকিস্তানের অফিসারদের সুযোগ সুবিধা এবং প্রমোশন দেয়া হতো না।পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে এমন আচরণ দেখে জিয়াউর রহমান প্রথম পুর্ব পাকিস্তানের জন্য আলাদা স্বাধীন জাতি সত্বার প্রয়োজন অনুভব করেন,সে কারনেই তিনি পুর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির সংবাদ সব সময় নিতেন।

১৯৭০ সালে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের দায়িত্ব লাভ করেন।তিনি পূর্ব পাকিস্তানে যোগদান করার পূর্ব থেকেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থা চলছিলো।

শেখ মুজিব আর পাকিস্তানের ক্ষমতার দরকষাকষিতে যখন পূর্ব বাংলার জনগণ নিষ্পেষিত হচ্ছিলো এবং শেখ মুজিব পূর্ববাংলার জনগণকে একা পাকিস্তানিদের সাথে সুটকেস গুছিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেন।জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতারা যখন দিশেহারা ভাবে পলায়নে ব্যস্ত,সেই ভয়াবহ মূহুর্তে অন্যদিকে চট্রগ্রামে ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর উপ অধিনায়ক জিয়াউর রহমানের হাত ধরে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছিলো।সে সময়ের অধিনায়ক জুঞ্জুয়াকে (পাকিস্তানি) গ্রেফতার করে "উই রিভোল্ট" এর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন এবং পরবর্তীতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেন।যুদ্ধকালীন সময়ে সেক্টর কমান্ডার সহ, জেড ফোর্সের প্রধানের দায়িত্ব পালনের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন যার ফলশ্রুতিতে বীর উত্তম উপাধি পায়।

যুদ্ধপরবর্তী স্বাধীন দেশে সেনাপ্রধান হওয়ার সকল যোগ্যতা থাকার পরেও ওনাকে উপ সেনাপ্রধান করা হয়।শেখ মুজিবের ৩ বছরের কলনী টাইপ শাসনে দেশের মানুষ যখন অতিষ্ঠ হয়ে কিছু দেশ প্রেমিক সেনাদের অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হোন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মুজিব হত্যার পর যখন সমগ্র বাংলাদেশ ক্যু আর পালটা ক্যুতে ক্ষত বিক্ষত,দেশের সেই অন্তিম ক্রান্তিলগ্নে সিপাহি-জনতার আহ্বানে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।দেশ গঠনের দায়িত্ব নেয়ার পরেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সবার্থে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়,এর মধ্য অন্যতম হচ্ছে দেশ বিরোধী চক্রান্তকারী কর্নেল তাহেরের শাস্তি।কর্নেল তাহেরের শাস্তির মাধ্যমেই মূলত জিয়া যুগের আইনের সুশাসনের সূচনা হয়।রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই জিয়াউর রহমান দেশে শান্তি শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করেন। ১৯৭৬ সালের ৮ই মার্চ মহিলা পুলিশ গঠন করেন,পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ করে তিনি তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।


১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন,বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য।প্রেসিডেন্ট জিয়া ওনার ৩ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ সার্বিক দিক দিয়ে উন্নয়নমুখী হতে থাকে।কিন্তু এই তলাবিহীন ঝুড়িতে তলা লাগানোর কাজটা সহজ ছিল না।

প্রথমেই ওনি ৪ টি সংবাদপত্র থেকে ৪৪টি সংবাদপত্রে উত্তীর্ণ করেন এবং বাংলাদেশকে ১ দল ১ দেশ থেকে বের করে ৬২ দলে রূপান্তরিত করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বুজতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে গেলে সবার আগে দেশের সাধারণ মানুষদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে।তাই তিনি দেশে কৃষি বিপ্লব ঘটান এবং সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লেখ্য স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তায়র সমন্বয় ঘটিয়ে নিজে সাথে থেকে সমগ্র বাংলাদেশে ১৪০০ খাল খনন করেন।যা পরবর্তীতে বর্ষাকালে বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে খরার হাত থেকে রক্ষা কবজ হিসেবে কাজে দিয়েছে।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন আরএমজি সেক্টর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পের সূচনা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ডেইউ কর্পোরেশন বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগ করেই ক্ষান্ত হোন নি বরং কর্মীদের প্রশিক্ষণও দিয়েছে যেন তারা পরবর্তীতে তাদের নিজস্ব তৈরি পোশাক কারখানা চালু করতে পারে।

জিয়া রহমানের সরকারের একটি বড় অর্জন হল জনশক্তি রপ্তানি যা প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে যখন তিনি ডেপুটি সিএমএলএ ছিলেন, প্রায় ৬০০০ অভিবাসী মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিল। জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে একই বছর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮০ সাল নাগাদ, বিভিন্ন আরব দেশের সাথে চুক্তির অধীনে প্রচুর পরিমাণে অভিবাসী উড়তে শুরু করে এবং ১৯৮১ সালে, বেসরকারি সংস্থাগুলিকে জনশক্তি রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। চার বছরে ৬০ হাজারের বেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে গেছে। 

১৯৭৭ সালে মায়ানমার থেকে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে,যা যা বাংলাদেশে একটি বড় শরণার্থী সংকট তৈরি করে। জিয়াউর রহমান এই সংকট অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করেন ,জিয়াউর রহমান এই সমস্যাটিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যান এবং সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ, ওআইসি এবং পশ্চিমা ব্লকের সহায়তা চান।কিন্তু মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে অস্বীকার করলে ,জিয়াউর রহমান রোহিঙ্গাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রদানের হুমকি দেন।যার ফলে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়।

জিয়াউর রহমান মাত্র কয়েক বছরেই দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন,তিনি বহিঃবিশ্বে দক্ষিন এশিয়ার ভৌগোলিক গুরুত্ব বুজতে পেরে,আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগীতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহকে নিয়ে সার্ক গঠন করেন।যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশের ভিতর কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিয়াউর রহমান হলেন প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রপ্রধান যাকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।তিনি ১৯৮০ সালের ২৭ আগস্ট হোয়াইট হাউস পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার বাংলাদেশকে খাদ্য উৎপাদনে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাষ্ট্রনায়কের মতো ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।।


১৯৮১ সালের ৩০ মে,শহীদ হবার পূর্ব পর্যন্ত জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নের কাজ করে গেছেন নিরলস ভাবে।একটা মানুষ সততার সাথে দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে চাইলে তা যে করা যায় সেটার একমাত্র উদাহরণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।তাইতো,১৯৭৯ সালের অক্টোবরে ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ এর প্রতিনিধি রতনি টাস্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ইন্টারভিউ নেন ,ইন্টারভিউয়ের পর তার পত্রিকায় লিখেছিলেন “জিয়ার প্রধান সম্পদ হলো জিয়ার ব্যক্তিগত সততা”।মাত্র ৩ বছরের শাসনামলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে তলাসহ পূর্ণ ঝুড়িতে রূপান্তরিত করেন।বাংলাদেশের প্রতিটা সেক্টরকে তিনি নিজ হাতে গড়েছেন যার উপর ভিত্তি করেই বর্তমান বাংলাদেশের বিশাল অর্থনীতি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।আজকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর প্রায় ৪৩ বছর পরে ২০২৪ এ এসে আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি এই বাংলাদেশ জিয়াউর রহমান ১৯৭৮-৮১ সালেই দেখিয়ে গেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের নামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে,বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে গেলে ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে জিয়াউর রহমানের নাম আসবেই।৯০তম জন্মবার্ষিকীতে আপনার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন