মোঃ আসাদ আলী
ক্ষুধার কোনো ধর্ম নেই,
নেই জাতের বেড়াজাল!
ক্ষুধার তাপে কাঁদে সবাই,
রাজা-প্রজা সমান।
অন্নহীন শিশুর কান্না, শুনে কি ভেদ বুঝি?
ক্ষুধার জ্বালায় পুড়ে যখন,
কোথায় জাতি খুঁজি?
মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায়, প্যাগোডার দেয়াল,
ক্ষুধার্ত পেটে কি শোনে কেউ ভজন, আজান, গীতাল?
পেটের মাঝে আগুন জ্বলে, জঠরের চিৎকার,
সেখানে কোনো বিধি চলে? চলে কি নিয়ম-আচার?
ধর্মের নামে যুদ্ধ দেখি, দেখি হিংসার খেলা,
ক্ষুধার কষ্ট বুঝবে কবে—মানবতার মেলা?
অন্নের অভাবে নিভে যায় কত শত প্রাণ,
ধর্ম কি দিতে পারে সান্ত্বনা?
নাকি খালি অভিমান?
ক্ষুধার কষ্ট বোঝে সেই, যার নাই এক দানা,
ভাতের জন্য কাঁদে শিশু, শুকায় চোখের পানি যেন বন্যার গাঙের খানা।
কেউ বা খায় সোনার থালায়,
কেউ না খেয়ে মরে,
কোথায় তবে ঈশ্বর বসত, কোথায় তিনি ওরে?
পবিত্র ধর্ম যদি শেখায় প্রেম আর মানবতা,
তবে কেন ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে মানুষ করে লড়াই-মাতা?
দাও অন্ন, দাও জীবন, দাও এক মুঠো হাসি,
ক্ষুধার যন্ত্রণা মেটালে তবেই বাঁচবে মানুষ, হাসবে আকাশ-বাসি।
ক্ষুধার কোনো ধর্ম নেই,
নেই কোনো জাত,
ক্ষুধার্ত পেটে অনাহার কাঁদে, শুনতে কি পাও
যদি সত্যি বুঝতে চাও ধর্মের মহত্ত্ব,
তবে অন্ন দাও ক্ষুধার্তকে সেই হবে মোক্ষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন