মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ হাসান সোহান
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ৯১.২৫ নম্বর পেয়ে সারাদেশে প্রথম হয়েছেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম শান্ত। গতকাল বিকেলে ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে তার গ্রামের বাড়িতে মানুষের ঢল নেমেছে।
জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারেরচর গ্রামের কৃষক মো. মিজানুর রহমান ও গৃহবধূ ফেরদৌসা বেগম দম্পতির ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার দুই বোন স্থানীয় বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
তিনি ২০২৩ সালে স্থানীয় বারৈচা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি এবং চলতি বছর ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। মেডিকেলে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে কলেজে ভর্তির শুরু থেকেই তিনি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। এ জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার তেজকুনিপাড়ার একটি বাসায় সাবলেট থেকে নিয়মিত মেডিকেল ভর্তি কোচিং করেন তিনি।
পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই জাহাঙ্গীর আলম শান্ত অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী ছিলেন। শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং তার নিরলস পরিশ্রমই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার এ অর্জনে এলাকাবাসী ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
ফলাফল প্রকাশের পর গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে তাকে ঢাকায় থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ ভোরে বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ও দোয়া করতে ভিড় করছেন। আজ নিজ বিদ্যালয় থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম শান্তর বাবা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ফলাফল ঘোষণার পর ছেলে ফোন করে জানায় সে সারাদেশে প্রথম হয়েছে। তখন গর্বে বুক ভরে যায়। আজ এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে—এর চেয়ে আনন্দের কিছু হতে পারে না।”
বারৈচা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “জাহাঙ্গীর আলম শান্ত আমাদের বিদ্যালয় ও পুরো এলাকাকে গর্বিত করেছে। ভবিষ্যতে সে একজন সফল ও মানবিক চিকিৎসক হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবে—এই প্রত্যাশা।”
নিজ অনুভূতি প্রকাশ করে জাহাঙ্গীর আলম শান্ত বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। এই সাফল্যের পেছনে আমার মা-বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন