🔴 ব্রেকিং

শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রসহ ২ জনের, শোকের ছায়া দুই উপজেলায়


মোঃ নাজমুল হক, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:


চুয়াডাঙ্গার দুই উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রাঘাতে এক স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টির সময় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো ঘটে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায় কৃষিকাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত হন রাসেল আলী (২৫)। তিনি একই এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে আকাশে হঠাৎ মেঘ জমে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন রাসেল। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিমুল ইসলাম (১৪) বজ্রপাতে প্রাণ হারায়। সে ওই গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বাবা মাঠে কাজ করছিলেন। বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে সে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। বিশেষ করে কিশোর শিক্ষার্থী আজিমুলের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে অবস্থান করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাইকে ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জীবননগর ও দর্শনা থানার কর্মকর্তারা জানান, বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশাখ মাসে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এ সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদায় ঘটে যাওয়া এই দুইটি দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সামান্য অসতর্কতাই বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন